যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

শিপিং গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৩টি জাহাজ পার হয়েছে। রোববার এ সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় চারটিতে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৮৯টি জাহাজ বের হয়েছে এবং ১০৩টি জাহাজ প্রবেশ করেছে।

পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ইরাক। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসরা বন্দর থেকে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জুলাইয়ে ইরাকের তেল রপ্তানি দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেলে উঠলেও যুদ্ধের আগে বাসরা থেকে প্রতিদিন ৩৩ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি হতো।

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প রপ্তানি পথ খুঁজছে বাগদাদ। তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডানের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পরিকল্পনা করছে ইরাক। একই সঙ্গে সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে নতুন পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত পাইপলাইন নির্মাণে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হতে পারে অন্তত ১৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে স্বল্পমেয়াদে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।